জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম |
NID Card Correction 2023
অনলাইনে এনআইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করার নিয়ম
অনলাইনে আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য ভিজিট করুন services.nidw.gov.bd। তারপর NID Wing এ রেজিস্টার করলে পার্সোনাল ড্যাশবোর্ড পাবেন। তারপর প্রোফাইল অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য পেজ থেকে Edit (এডিট) – এ ক্লিক করুন। কাঙ্খিত তথ্যের পাশের বক্সে টিক মার্ক দিয়ে সংশোধিত তথ্য লিখুন। পরবর্তী ধাপে পেমেন্ট পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন। সম্পূর্ণ আবেদন রিভিউ দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। বিস্তারিত প্রক্রিয়া নিচে দেখানো হবে, মনযোগ সহকারে আপনাকে এই পদ্ধতি গুলো অনুসরন করতে হবে।
ধাপ ১: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে রেজিস্টার
প্রথমেই আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে nidw.gov.bd – এই লিংকে ভিজিট করুন। এবার রেজিস্টার অপশনে ক্লিক করে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ দিয়ে ক্যাপচা পুরন করে সাবমিট করুন। বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা তথ্য দিন এবং মোবাইল নাম্বার ভেরিফাই করুন। মোবাইলে NID Wallet অ্যাপস ব্যবহার করে ফেস ভেরিফিকেশন করুন ও পাসওয়ার্ড সেট করুন। ব্যাস, ওয়েবসাইটে আপনার এনআইডির ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ডে ওপেন হবে। বিস্তারিত দেখুন NID Account Register

ধাপ ২: প্রোফাইল ভিজিট করুন
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে উপরের প্রোফাইল অপশনে ক্লিক করুন। পরবর্তী পেইজে প্রোফাইল অপশনের ব্যক্তিগত তথ্য, অন্যান্য তথ্য ও ঠিকানা আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি পাবেন। এখান থেকে এডিট অপশনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩: কাঙ্খিত তথ্য সংশোধন করুন
সংশোধনের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৫ টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। আপনি যে তথ্য সংশোধন করতে চান তার পাশের খালি ঘরে টিক মার্ক দিন। তাহলেই কাঙ্খিত সংশোধিত তথ্য লেখার অপশন পাবেন। সংশোধিত তথ্যটি লিখে উপরের পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: সংশোধিত তথ্য নিশ্চিতকরন
আপনি যেই তথ্য সংশোধন করতে চাচ্ছেন তার বর্তমান ও কাঙ্খিত সংশোধিত রূপ দেখানো হবে। পরিবর্তন ধাপে সকল তথ্য দেখে ‘পরবর্তী’ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৫: সংশোধন ফি পরিশোধ করুন
পরবর্তী ধাপে যেতে হলে আপনার NID নাম্বার অনুযায়ী সংশোধন ফি পরিশোধ করতে হবে। এজন্য বিকাশ, নগদ, রকেট মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পেবিল অপশনে যান। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে এনআইডি নাম্বার লিখে পেমেন্ট করুন। তারপর ওয়েবপেইজে আসলে পরবর্তী পেজে নিয়ে যাবে। ফি আপনি অনলাইন চালান কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।

বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফি দিতে-
- আপনার বিকাশ একাউন্টে লগইন করুন।
- ড্যাশবোর্ড থেকে পে বিল অপশনে যান।
- NID Service সিলেক্ট করুন।
- আবেদনের ধরণে NID Info Correction সিলেক্ট করুন।
- আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার দিয়ে পরবর্তী ধাপে যান।
- ২৩০ টাকা সংশোধন ফি দিতে আপনার বিকাশ পিন নাম্বার দিয়ে ট্যাপ করে ধরে রাখুন।
- এভাবে খুব সহজেই NID Service এর সরকারি ফি দিতে পারবেন।

ধাপ ৬: কাগজপত্র আপলোড করুন
আপনার সংশোধনের ধরন অনুযায়ী যেসকল ডকুমেন্ট উপযুক্ত তা জমা দিন। আবেদনের পূর্বেই সংগ্রহ করে রাখা ছবিগুলো Browse/ আপলোড অপশন থেকে আপলোড করুন।

সংশোধনের বিষয়বস্তুর সাথে মিল নেই এমন কাগজপত্র আপলোড করলে আবেদন অনুমোদিত হবে না।
ধাপ ৭: আবেদন নিশ্চিত করুন
সংশোধনের সকল ধাপ সম্পন্ন করার পর, আবেদনের বিস্তারিত দেখানো হবে। তথ্য সঠিক থাকলে ‘নিশ্চিত করুন’ বাটনে ক্লিক করে আবেদন সাবমিট করুন।

উপরোক্ত ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম অনুসরণ করে আপনার কাঙ্খিত তথ্য সংশোধন করতে পারবেন।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে
ভোটার আইডি কার্ডে একজন ব্যক্তির পরিচয়বাচক বিভিন্ন তথ্য থাকে। প্রতিটি তথ্য আলাদা আলাদা ভাবে সংশোধন করা যায়। সংশোধনের ধরন ও বিষয়বস্তু অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ডকুমেন্টস লাগে। নিচের বিভিন্ন প্রকার তথ্য সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো-
নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে-
ভোটার আইডি কার্ডে নামের বানান সংশোধন ও সম্পূর্ণ নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়। যথা:
নামের বানান/ আংশিক নাম সংশোধন করতে প্রয়োজন
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট (JSC, SSC, HSC)
- পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
- বিবাহিত হলে কাবিননামা।
- সন্তানের বোর্ড পরীক্ষার সনদ বা সন্তানের এনআইডি কার্ড। সেখানে পিতা-মাতার নাম শুদ্ধ থাকতে হবে।
সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন করতে প্রয়োজন হবে
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট (JSC, SSC, HSC)।
- পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
- বিবাহিত হলে কাবিননামা।
- সন্তানের বোর্ড পরীক্ষার সনদ বা সন্তানের এনআইডি কার্ড। সেখানে পিতা-মাতার নাম শুদ্ধ থাকতে হবে।
- MPO/ সার্ভিস বইয়ের কপি।
- সরকার অনুমোদিত নোটারি পাবলিক কর্তৃক এফিডেভিট।
- তদন্ত প্রতিবেদনের কপি।
- উপজেলা নির্বাচন অফিসের নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদন।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন করা জটিল। এ ব্যাপারে কর্মরত কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত করবে এবং প্রতিবেদন তৈরি করে সেটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট দাখিল করবেন. এরপর সম্পূর্ণ নাম সংশোধন আবেদন মঞ্জুর কিংবা বাতিল হতে পারে।
বয়স সংশোধনের ক্ষেত্র-
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট (JSC, SSC, HSC)।
- পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
- একজন সিভিল সার্জন কর্তৃক বয়স প্রমাণের প্রত্যয়ন পত্র।
- চেয়ারম্যান কর্তৃক পারিবারিক সনদ/প্রত্যয়ন পত্র।
- সকল ভাই-বোনদের এনআইডি কার্ডের কপি।
- MPO/ সার্ভিস বই/ চাকরির ইমপ্লয়ার আইডি।
- বিবাহের কাবিননামা।
- ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অফিস স্মারক সম্মিলিত প্রত্যয়ন পত্র।
- পেনশন বা অবসর ভাতা বইয়ের সত্যায়িত কপি।
এনআইডি কার্ড এ বয়স পরিবর্তনের জন্য আইডি কার্ডের বয়স ও সংশোধিত বয়স এর তারতম্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের সংখ্যা বাড়ে।
পিতা মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে –
শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট (JSC, SSC, HSC)।
পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র।
পিতা মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
ওয়ারিশ সনদ (ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পিতার সকল সন্তানদের জন্মের ক্রম অনুসারে ও জাতীয়পরিচয় পত্র তথ্য উল্লেখ করে প্রত্যয়ন)।
ভাই বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র।
এনআইডি কার্ডের স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন
স্থায়ী ঠিকানা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়:
- আবেদনকারীর বর্তমান জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি।
- ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম (ভোটার মাইগ্রেশন ফরম- ১৩) পূরণ।
- যে এলাকায় স্থানান্তর হতে চাচ্ছেন তার ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক নাগরিকত্ব সনদ।
- বর্তমান এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ/চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে ভোটার স্থানান্তর প্রত্যয়ন পত্র।
- ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি)।
- উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে অন্যান্য কাগজপত্র।
আইডি কার্ডে পেশা পরিবর্তন
ভোটার আইডি কার্ডের পেশা পরিবর্তন অতি গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় নয়। তবে পেশা পরিবর্তন করতে চাইলে নিম্নোক্ত ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন হবে-
- ভোটার আইডি কার্ডের কপি।
- ইমপ্লয়ার আইডি কার্ড।
- যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রত্যয়ন পত্র।
এছাড়াও পেশার তথ্য বিষয়ক অন্যান্য ডকুমেন্টস (যদি থাকে)
শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে-
আইডি কার্ডের শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন করতে আপনার-
- সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ পত্র।
- সরকার অনুমোদিত নোটারি পাবলিক কর্তৃক এফিডেভিট।
- জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি।
এভাবে সংশোধনের বিষয়বস্তু অনুযায়ী প্রতিটি তথ্যের জন্য আলাদা আলাদা ডকুমেন্টসের প্রয়োজন হয়। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়মে আবেদন করার পূর্বেই এসকল ডকুমেন্টস সংরক্ষা করুন।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত টাকা লাগে
ভোটার আইডি কার্ডের সংশোধন ফি নিম্নরুপ:
- ব্যক্তিগত যেকোন তথ্য সংশোধন করতে ২৩০ টাকা ফি দিতে হয়।
- সাধারণ ও অন্যান্য তথ্য সংশোধন করতে ১১৫ টাকা ফি দিতে হয়।
- ব্যক্তিগত ও অন্যান্য – উভয় তথ্য সংশোধন করতে ৩৪৫ টাকা ফি দিতে হয়।
- ভোটার আইডি কার্ড আর্জেন্ট (Urgent) রিইস্যু ফি – ৩৪৫ টাকা।
- ভোটার আইডি কার্ড সাধারণ (Regular) রিইস্যু ফি – ৩৪৫ টাকা।
প্রথমবার সংশোধনের জন্য আবেদন করলে ২৩০ টাকা। দ্বিতীয়বার আবেদন করলে ৩৪৫ টাকা। তৃতীয়বার আবেদন করলে ৪৬০ টাকা ফি দিতে হয়। এসকল সংশোধন ফি বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দিতে পারেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে কত দিন লাগে
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়মে তথ্য সংশোধিত হতে ৭-৪৫ কার্যদিবস সময় লাগে। সংশোধনের ক্যাটাগরি অনুযায়ী সময় ভিন্ন হয়। সংশোধন করতে কতদিন লাগে বিস্তারিত জানুন
- ‘ক’ ক্যাটাগরির আবেদন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার সম্পন্ন করে ৭ দিনে।
- ‘খ’ ক্যাটাগরির আবেদন, জেলা নির্বাচন অফিসার সম্পন্ন করে ১৫ দিনে।
- ‘গ’ ক্যাটাগরির আবেদন, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার সম্পন্ন করে ৩০ দিনে।
- ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক সম্পন্ন করে ৪৫ কার্য দিবসের মধ্যে।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন সংক্রান্ত প্রশ্ন- FAQ
ভোটার আইডি কার্ডে সংশোধনের ক্ষেত্রে একই তথ্য সর্বোচ্চ একবার সংশোধন করা যায়। তবে স্বামী/ স্ত্রীর নাম, রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা একাধিকবার সংশোধন করা যায়।
আবেদন অনুমোদিত হলে সংশোধনের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ৭-৪৫ কার্য দিবসের মধ্যে সংশোধিত কপি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে আপনাকে নিজে খতিয়ে দেখতে হবে ঠিক কোন কারণে আপনার সংশোধন আবেদনটি বাতিল হয়েছে. উক্ত কারণগুলো সমাধান করে আপনাকে পুনরায় সংশোধন আবেদন দাখিল করতে হবে
সংশোধন আবেদন একটি জটিল প্রক্রিয়া, সংশোধন ক্যাটাগরি বিভিন্ন মেয়াদে সময় লেগে থাকে, এক্ষেত্রে আপনি পারেন অপেক্ষা করতে, অথবা নির্বাচন অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে
স্মার্ট কার্ড একজন ব্যক্তির জন্য আপাতত একবার প্রদান করে নির্বাচন কমিশন।সুতরাং দ্বিতীয়বার স্মার্ট কার্ড পাওয়ার সুযোগ নেই, এক্ষেত্রে আপনাকে সংশোধিত অনলাইন লিমিনেটিং কপি ব্যবহার করতে হবে।
0 Comments